নিজস্ব প্রতিবেদক।।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগের কারণে স্বাস্থ্যখাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ুজনিত অভিঘাতে প্রজননস্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া, মাতৃস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং নারীর প্রতি সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘হেলথ ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান (এইচ-ন্যাপ) ২০২৬-২০৩১’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এই সব কথা বলেন। এতে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতকে আরও সক্ষম করতে সরকারের নেওয়া ‘হেলথ ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানের গ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই পরিকল্পনা বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে বিভিন্ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও একটি জলবায়ু সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বল্প-কার্বন এবং টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, এই পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি- যেমন তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং রোগের ধরনে পরিবর্তন-মোকাবিলায় একটি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি প্রণয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সহায়তা দিতে পেরে ইউএনএফপিএ খুবই আনন্দিত হয়েছে। এতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং মন্ত্রণালয়ের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রোমোশন ইউনিটসহ বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও সুইডেন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকট, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর।
তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্যোগের মধ্যেও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা, নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষা, তরুণদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং একটি কার্যকর ও সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ তৈরি হবে।