পাবলিক প্লেসে ‘ধূমপান’, শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জরুরি

by glmmostofa@gmail.com

 নিজস্ব প্রতিবেদক।। আমরা ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানি। তারপরও জেনেবুঝেও অনেকে দেদার ধূমপান করে যাচ্ছেন। সিগারেটে সুখটান না দিলে যে তাদের কাজে মন বসে না, চোখে ঘুম আসে না। আবার অনেকের মতে, সিগারেট না খেলে তো স্মার্টই হওয়া যায় না। দেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে দেশে একটি আইন হয়েছিল ২০০৫ সালে। কিন্তু সে আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। তাই পাবলিক প্লেসে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বা ’ডেজিগনেটেড স্মোকিং জোন (ডিএসএ)’ বাতিল করতে একটি শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) নেতারা।

গত ২৯ নভেম্বর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ বিষয়ে এটিজেএফবির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ কথা বলেন তারা।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের, উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের প্রোগ্রামস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া, কমিউনিকেশন ম্যানেজার হুমায়রা সুলতানা এবং বাসস-এর অনলাইন ইনচার্জ ও এটিজেএফবি সভাপতি তানজিব আনোয়ার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫’ আইনে পাবলিক প্লে­স, রেস্তোরাঁ ও গণপরিবহনে স্মোকিং জোন থাকার কারণে পরোক্ষ ধূমপানজনিত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন অধূমপায়ীরা। এতে করে ৮৫% হারে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, স্মোকিং জোনকে ব্যবহার করে ৭৩% রেস্তোরাঁতে তামাক কোম্পানি বিজ্ঞাপন সামগ্রী প্রদর্শন করছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৬৭টি দেশে পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে।
এ সময় মোখলেসুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধিকতর সংশোধনীর জন্য যে খসড়াটি প্রণয়ন করেছে, সেটি পাস হলে দেশে আইনটি এফসিটিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হবে। ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠন তরান্বিত হবে।

আবদুস সালাম বলেন, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন জনপরিসর ও গণপরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা (ডিএসএ) থাকলে অধূমপায়ীদের পাশাপাশি সেবাকর্মীরাও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। থাইল্যান্ড, নেপাল, আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ সূচকে ভালো করলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে ডিএসএ বাতিলের প্রস্তাব সংবলিত খসড়া সংশোধনীটি পাস হলে বাংলাদেশও এসব দেশের কাতারে পৌঁছাবে বলেও মনে করেন তিনি।

You may also like

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স ৪৪/১, রহিম স্কয়ার

নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@pran24.com