ঢামেকে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন আচরণ, নিউরোসার্জারনকে অব্যাহতি

by glmmostofa@gmail.com

নিজস্ব প্রতিবেদক।। 

এক নারী চিকিৎসককে নিয়ে অশালীন ও অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের  নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম খানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নিউরোসার্জারি বিভাগ এক জরুরি বিভাগীয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে এ ব্যাপারে এক বিবৃতি বলা হয়, ‘নিউরোসার্জারি বিভাগ ঢামেক হাসপাতালকে স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, উত্থাপিত অভিযোগে বর্ণিত উক্তিসমূহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত চিন্তাপ্রসূত, যা নিউরোসার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিউরোসার্জারি বিভাগ গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে। নিউরোসার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ পেশাগত নৈতিকতা, সহকর্মীদের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং রোগী সেবার উচ্চতম মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

এ অবস্থায় বিভাগের পক্ষ থেকে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. অভিযোগ তদন্তের জন্য তিনজন অধ্যাপকের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
২. তদন্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম খানকে বিভাগের সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
৩. সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্ট চিকিৎসককে অন্য ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে।

একাধিক চিকিৎসক মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, গত ১ নভেম্বর নিউরোসার্জারি বিভাগের হোয়াইট ইউনিটে যোগদানের পর ইউনিট প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম খানের সঙ্গে দেখা করতে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের ফেজ-এ রেসিডেন্ট ডা. নুসরাত নওশিন নওরিন। তিনি অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে একের পর এক অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক মন্তব্য করেন।

চিকিৎসকদের অভিযোগ, ডা. শামসুল ইসলাম খান এনেসথেসিওলজিস্টদের ‘কুকুরের জাত’ বলে বারবার সম্বোধন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে গালিগালাজ করেন। এমনকি সহকর্মী চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অশোভন মন্তব্য করেন।

রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের এ সংক্রান্ত অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ডা. শামসুল ইসলাম খান এনেসথেশিওলজি পেশাকে ‘নিম্নমানের ও নির্ভরশীল বিষয়’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন এবং একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ব্যক্তিগতভাবে অপদস্থ করার মতো ভাষা ব্যবহার করেন।’

এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের সহকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালের রুটিন অপারেশন বন্ধ রাখেন অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসকরা। পরে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে  কাজে ফিরেন চিকিৎসকরা।

You may also like

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স ৪৪/১, রহিম স্কয়ার

নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@pran24.com