চক্ষু চিকিৎসক সমিতির তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন শুরু

বাংলাদেশে চোখের রোগের চিকিৎসা আন্তর্জাতিক মানের: প্রধান বিচারপতি

by glmmostofa@gmail.com

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, আমাদের দেশে চোখের রোগের চিকিৎসা আন্তর্জাতিক মানের। তাই রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বুঝে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। তরুণ চিকিৎসকরা আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সাথে রোগীদের সেবা চিকিৎসা দিতে হবে। রোগীদের  শুধুমাত্র পেশাদারিত্ব না, বরং পেশাদারিত্বের সাথে আবেগ দিয়ে চক্ষু রোগীদের সেবা প্রদান করলে বেশী কার্যকর হবে। আর বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির পক্ষ থেকে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে একটি করে চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তোলার  পাশাপাশি চিকিৎসকদের গ্রামে গিয়েও সেবা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির তিন দিনব্যাপী ৫১তম বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘যত্নে রাখি চোখ, দৃষ্টি রাখি ভালো, নতুন দিনের দৃষ্টিপ্রদীপ, একান্নতেই জ্বালো।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথ্যালমোলজির সভাপতি  অধ্যাপক আভা হোসেন ও বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক দীপক কুমার নাগ।

প্রধান বিচারপতি ওয়ায়দুল হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্যসেবা নীতির ফলে আজকে দেশের স্বাস্থ্যখাত বিকশিত হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। এটি সরকারের সুদূরপ্রসারি চিন্তা ভাবনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক উন্নত হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসার সেবা বিশ্বমানের হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসা ও হৃদরোগের চিকিৎসা আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় বিদেশ নির্ভরতা কমেছে। দেশের গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে চোখের যত্নের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে প্রশাসনিকভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনো চিকিৎসক কখনো রোগীর মৃত্যু চান না।  কোনো কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেজন্য একজন চিকিৎসককে আটকিয়ে রাখলে আরও অন্য রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। কষ্ট পাবে।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে রোগীর মারা যাওয়ার মামলাগুলো সচেতনভাবে দেখতে বিচারককের প্রতি আহ্বান করেন বিচারপতি।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসকদের অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না। অপরাধ প্রমাণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যেখানে প্রশাসন, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিনিধি থাকবে। চিকিৎসক কোন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কি না তা এই কমিটি তদন্ত করবে। তদন্ত ছাড়া চিকিৎসকদের গ্রেফতার করা হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম মুকতাদির। আর সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন।

 

You may also like

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স ৪৪/১, রহিম স্কয়ার

নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@pran24.com