নিজস্ব প্রতিবেদক।।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার বিষয়ে দেশজুড়ে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে অনুসারে আগামী ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বয়ে মেডিকেল টিম গঠন, সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা, জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মস্থলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল/বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১০/০২/২০২৬ ইং তারিখ হতে ১৫/০২/২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য জরুরি নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন করতে হবে।’
এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশনে ৬টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৪টি, জেলা পর্যায়ে ৩টি, উপজেলা পর্যায়ে ২টি ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান/স্বাস্থ্য প্রশাসক জনবলের প্রাপ্যতা/প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে মেডিকেল টিমের সদস্য নির্ধারণ করবেন। এ উপলক্ষে জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করবেন।
এ সময় হাসপাতালে সার্বক্ষণিক এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখারও নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করে নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, তিনি ছুটিতে থাকলে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং নাম, পদবী, মোবাইল নম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করবেন।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য নির্দেশনা
এ ছাড়া সকল বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক নির্বাচনকালীন সময়ে চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে জরুরি বিভাগ চালু থাকবে হবে। নির্দেশনার আওতায় কোনো রোগী রেফার করলে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করে যথাযথ কাউন্সিলিং করে রেফার করতে হবে এবং এ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে।
এ ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় সাধন এবং জরুরি প্রয়োজনে বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদেরকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক, এ্যাম্বুলেন্স, জনবল দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করবেন। পাপাশাশি জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হলে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান এবং বিভাগীয় কার্যালয় (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় একটানা ৭২ (বাহাওর) ঘন্টার বেশী বন্ধ থাকবে না। জরুরি বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, ল্যাব, ক্যাথল্যাব, ডায়ালাইসিস সেন্টার, সিটি স্ক্যান, এমআরআই সেন্টার যথারীতি খোলা থাকবে।
একই সঙ্গে বিভাগীয় স্বাস্থ্যের কার্যালয় এবং সিভিল সার্জন অফিসে ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।