নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দেশের এখন একটি গভীর জনস্বাস্থ্য সংকট হচ্ছে সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা দীর্ঘস্থায়ী বায়ুপ্রবাহে বাধা প্রদানকারী ফুসফুসের রোগ)। ধূমপান, বায়ুদূষণ, ইনডোর স্মোক এসব নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। আমাদের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় সিওপিডিকে অগ্রাধিকারে আনতে হবে।
বুধবার বিশ্ব সিওপিডি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘সিওপিডি: দি হিডেন পাবলিক হেলথ ক্রাইসিস’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।
দিবসটি উপলক্ষে এর আগে বিএমইউর বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক একটি বণার্ঢ্য র্যালি বের হয় এবং বেলুন ও পায়রা উড়ানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, সিওপিডি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সিওপিডি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ও নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। সিওপিডি নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। গবেষণার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, জনগণ ও রোগীদের প্রয়োজন এবং কল্যাণে কাজে আসে সে ধরণের গবেষণায় দৃষ্টি দিতে হবে। গবেষণা ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন যে, অনেক টাকা ব্যয় করে গবেষণা করলেই সেটা যে বড় গবেষণা হবে বা রোগী, জনগণের কল্যাণে আসবে তা কিন্তু নয়। এমন অনেক উদারণ আছে যে, অল্প ব্যয়ের গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত ফলাফল জনগণ ও মানুষের বিরাট কল্যাণে অবদান রেখে চলছে।
তিনি বলেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, কমিউনিটি-স্তরের স্ক্রিনিং, এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আজকের এই আয়োজন আগামীতে গবেষণা, রেসিডেন্সি ট্রেনিং, পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কেন্দ্র এবং ডিজিজ রেজিস্ট্রি তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
চেস্ট এন্ড হার্ট এসোসিয়েশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, সিওপিডি প্রতিরোধে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সিওপিডি প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সাথে গবেষণা কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সিওপিডি প্রতিরোধে ধুমপান পরিহার, বায়ুদুষণ হ্রাস করাসহ সকল ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। গ্রামে রান্নার চুলা ব্যবহারের সঠিক নিয়ম মায়েদেরকে অবহিত করতে হবে। সিওপিডির রোগীরা যাতে গাইডলাইনভিত্তিক যথাযথ চিকিৎসা পায় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গণমানুষকে সচেতন করা জরুরি। সিওপিডি প্রতিরোধে পরিবেশ দুষণ প্রতিরোধ, ধুমপান পরিহার অপরিহার্য। উন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ বলেন, মনে রাখতে হবে সিওপিডি প্রতিরোধযোগ্য। সিওপিডি প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় শক্তি। একসাথে কাজ করলে আমরা এই রোগের বোঝা প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমাতে পারব। আজকের সেমিনার ও আলোচনা স্পষ্ট করেছে সিপিওডি মোকাবিলার জন্য সমন্বিত গবেষণা, রোগী শিক্ষা, ধূমপান নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। বিএমইউ এ বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। আজকের আলোচনার সুপারিশসমূহ আগামী বছরের অ্যাকশন প্ল্যানে যুক্ত করা হবে।
আলোচনা আরও বক্তব্য রাখেন বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের, অধ্যাপক ডা. কাজী মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, এনআইডিসিএইচর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন, ডিএমসির রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আদনান ইউসুফ চৌধুরী, সিএইচএবির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গোলাম সারোয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া, রেসপিরেটরি বিভাগের ডা. রাজশিস চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. মানাল মিজানুর রহমান।