নিউজ ডেস্ক।।
গত বছরের তুলনায় ভারতের দক্ষিণী রাজ্য কেরালায় এই বছর ‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। চলতি বছর কেরালায় এখন পর্যন্ত ৬১টি নিশ্চিত আক্রান্তের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে গত কয়েক সপ্তাহে। এই মারণ রোগ নিয়ে এরই মধ্যে সতর্কতা জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। সম্প্রতি নয়াদিল্লি থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি নামে পানিবাহিত এই বিরল অ্যামিবার সংক্রমণ এখনো ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সের সদস্য চিকিৎসক ডা. আলতাফ আলী জানান, সংক্রমণ শনাক্ত ও দ্রুত চিকিৎসার লক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকহারে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর কেরালায় নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৭২ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ২৪ জন আক্রান্ত হন এবং ৯ জনের মৃত্যু হয়। তুলনামূলকভাবে গত বছর মোট ৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ৯ জনের।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, এই অ্যামিবাকে ‘মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা’ বলা হয়। কারণ এটি মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটিয়ে মস্তিষ্কের টিস্যু ধ্বংস করে ফেলে।
অ্যামিবাটি মস্তিষ্কে পৌঁছে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারলে আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশেরও বেশি মৃত্যু হয়।
সিডিসি জানায়, অ্যামিবার সংক্রমণ ‘অত্যন্ত বিরল’, তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতি।
এটি গরম হ্রদ এবং নদীর পানিতে বাস করে এবং দূষিত পানি নাকে প্রবেশের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এটি এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, এই রোগের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, জ্বর এবং বমি, যা দ্রুত খিঁচুনি, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, ভ্রম এবং কোমা-তে রূপান্তরিত হয়।
আলতাফ আলী বলেন, ‘এই বছর নতুন করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আগে তা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। এটি উদ্বেগের বিষয়।’
১৯৬২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচশ’ জন এই অ্যামিবায় সংক্রমিত হন, যাদের বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ায় ঘটেছে বলে জানা গেছে।