আরও ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করার পরিকল্পনা

২০০ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হবে

by glmmostofa@gmail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দেশে আরও ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরির পরিকল্পনা করেছে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট। সেইসঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য আরও ২০০ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হবে।
বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আক্তারুজ্জামান।
তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়ন অর্থায়নে আরও ৫০০টি নতুন ক্লিনিক আমরা স্থাপন করতে পারব। এই মুহূর্তে আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আবেদন নিচ্ছি। যারা জমি দিতে আগ্রহী, তারা যদি নোটারি করা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আন্ডারটেকিং দেন, আমরা তাদের আবেদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে লিস্ট করছি। জমি পাওয়া গেলে দ্রুত সেই এলাকায় নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হবে।
আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা ১২০ কোটি টাকার ওষুধ কিনেছি। আরও ২০০ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করা হবে। ৯৫ শতাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক খুবই ভালো চলছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ বাইরে বিক্রি করার সুযোগ নাই। যদি কেউ এটা করেও থাকে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।
কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত অনেকেই বেতন পাচ্ছে না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ১৪ হাজার ৪৬৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সিএইচসিপির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯২৩ জন। ৬৩৪ জন ১৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না, এই ঘটনা সত্যি। আমাদের একটা ভুলের জন্য এমনটা হয়েছে। দ্রুত আমরা এই সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করছি। এছাড়া, কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরতদের ওয়ার্ড ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ জন্য বাইরে থেকে ম্যাটস পাস করা কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
৩০ মিনিট দূরত্বে তৈরি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরতদের জন্য ৫০০টির অধিক মোটরসাইকেল দরকার আছে কিনা- প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পায়ে হাঁটার ৩০ মিনিট দূরত্বের মধ্যে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করবো। এখানে যারা কাজ করবে তাদের জন্য আপাতত ৫০০টির কিছু বেশি মোটরসাইকেল দেওয়া হবে। কারণ, ৩০ মিনিটের দূরত্ব হলেও যারা কাজ করবে তাদের মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে হতে পারে এবং উপজেলায় মিটিংয়ে পৌঁছাতেও তাদের সময় কম লাগবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা যখন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিকল্পনা করেছিলাম, তখন হিসেব ছিল প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি ক্লিনিক থাকবে। কিন্তু দেশের বাস্তবতায় সেটা সব জায়গায় সম্ভব হয়নি। পাহাড়ি এলাকা, হাওর কিংবা চর অঞ্চলে কোনো কোনো জায়গায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার মানুষের জন্য একটি ক্লিনিক রয়েছে। ফলে সেখানকার কর্মীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এই ঘাটতি পূরণেই আমরা নতুন করে কমিউনিটি ক্লিনিক বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাস্টের মাঠ প্রশাসনের পরিচালক আসিফ মাহমুদ বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট এখন শুধু সেবা দেওয়ার জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। এজন্য আমরা নিজস্ব ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছি। এর ফলে সিএইচসিপি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাবেন। একইসঙ্গে সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনঃনির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে, যাতে একজন সেবাগ্রহীতা কোথায়, কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছেন তা সহজে ট্র্যাক করা যায় এবং সঠিক সময়ে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো। বর্তমানে ৫৪ শতাংশ সিএইচসিপি নারী হলেও আমরা সেটিকে ধাপে ধাপে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি পর্যায়ে উন্নীত করতে চাই। শুধু সংখ্যা বাড়ানোই নয়, আমরা তাদের ধাত্রীবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেব, যাতে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য সংক্রান্ত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হয়। এছাড়া বিশেষ অঞ্চল- যেমন হাওর, চর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় প্রতি ১৫০০ থেকে ২০০০ জন মানুষের জন্য একটি করে নতুন ক্লিনিক স্থাপন করার লক্ষ্য নিয়েছি।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, কমিউনিটি  ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে সৌরশক্তির মাধ্যমে। ভবিষ্যতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা উচ্চতর স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হবে, যাতে দূরবর্তী এলাকার মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেতে পারেন। একইসঙ্গে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় দেশীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালু করা হবে। প্রতি বছর গ্রামীণ এলাকার বয়স্ক জনগণের জন্য অন্তত একবার করে বেসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও আমাদের আছে।

কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের (সিএইচসিপি) সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল কনসেপ্ট হলো প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শমূলক সেবা দেওয়া। এখানে বড় কোনো ওষুধ থাকে না—অ্যান্টিবায়োটিক নেই। সাধারণত প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন বা এন্টারসিড জাতীয় কিছু ওষুধ দিয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের সেবার ব্যবস্থা রয়েছে, আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী সিএইচসিপিরা নিরাপদভাবে স্বাভাবিক ডেলিভারি করাতে পারেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে মোট ১৪ হাজার ৪৬৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন সিএইচসিপির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারী সপ্তাহে দুই দিন সেবা দিয়ে থাকেন। প্রতিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালিত হয় ১৩ থেকে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিউনিটি গ্রুপের মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে সিএইচসিপির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯২৩ জন।

You may also like

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স ৪৪/১, রহিম স্কয়ার

নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@pran24.com