নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি । বঙ্গভবনের দরবার হলের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার প্রথমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সরকার প্রধান ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকাল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন প্রথমে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোরালো আলোচনা—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তাঁকেই এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বিএনপি। সেই লক্ষ্য পূরণে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। এসব বিবেচনায় ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অভিজ্ঞ ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বের হাতে তুলে দিতে চান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা পেশায় সম্পৃক্ততার কারণে ডা. জাহিদ হোসেন এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বেসরকারিভাবে ২ লাখ ৩ হাজার ৮৮৭ ভোট পেয়েছেন। এ ফলাফল তাঁর জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর জেলা নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা গ্রামের সন্তান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি পেশাজীবী সংগঠন ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে চারবার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ-বিএসপিপি’র সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২২ সাল থেকে উক্ত পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১০ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬ সালে বিএনপির কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে তাঁকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।
রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। রাজনৈতিক কারণে গত ১৮ বছরে তাঁর নামে অর্ধশত মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি তিনবার কারাবরণ করেন। দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, এসব প্রতিকূলতা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতি রোধ এবং স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন তাঁর অগ্রাধিকার পাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এখন চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশের মানুষ।