‘খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে শিশুস্বাস্থ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে’

রোগ নির্ণয়ে এআই ব্যবহারে জাপানের সাহায্য চায় বিএমইউ

by glmmostofa@gmail.com

নিজস্ব প্রতিবেদক
আধুনিক প্রযুক্তির যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনি শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের দ্রুত পরিবর্তন, জাঙ্কফুড নির্ভরতা ও জীবনযাত্রার সংকট শিশুস্বাস্থ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় এখনই প্রতিরোধে গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে শিশুদের গ্যাস্ট্রিক, লিভার রোগ ও পুষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বাধুনিক জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণার প্রসারে দুই দিনব্যাপী ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনের আয়োজনে এ সম্মেলনে অংশ নেন দেশ-বিদেশের ছয় শতাধিক শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আমূল পরিবর্তনের ফলে এখন রোগ নির্ণয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বহু দেশেই ভূমিকা রাখছে; বাংলাদেশেও এ ধরণের সেবা দিতে বন্ধু রাষ্ট্র জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএমইউ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় বিএমইউর উপাচার্য  অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, দেশে শিশুস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ এখন দ্বিমুখী-একদিকে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক ও লিভার রোগ, অন্যদিকে খাদ্যাভ্যাসের দ্রুত বদলে যাওয়া।
তিনি জানান, শিশুদের রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও গবেষণায় আমাদের যে সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, তা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। স্থানীয় চিকিৎসকদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান পৌঁছে দিতে এ ধরনের সম্মেলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বিএমইউ শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণাগার ও বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলা হবে।
উপ-উপচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ মনে করেন, অপুষ্টির পুরোনো সংকট কিছুটা কমলেও নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তিতে। তিনি সতর্ক করেন—এ প্রবণতা এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে তা দেশের শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চাপে ফেলবে।
তিনি বলেন, পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত রোগ আইবিডি বা ‘ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ’ নির্ণয়ে বিভ্রান্তিতে ভোগার প্রসঙ্গ টানেন।
আলোচনার প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, সেমিনারটি ছিল প্যাথলজি সেমিনার, ইন্টার্ন প্যাথলজিস্টদের সেমিনার, তারা এটি করছে রয়্যাল কলেজ অব প্যাথলজিস্টের সহযোগিতায়। সেখানে একজন অধ্যাপক ছিলেন, যিনি রয়্যাল প্যাথলজিস্টদের সভাপতি ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি যে, আমাদের এমন কোনো ‘টুল’ বা ‘কি’ তৈরি করতে হবে, যাতে আমরা আইবিডি আর যক্ষ্মার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে এটি পার্থক্য করা খুব কঠিন।
এক্ষেত্রে জাপানিরা ‘অনেক এগিয়ে’ মন্তব্য করে তাদের সহায়তা চান ডা. আজাদ।
তিনি বলেন, প্রায়ই আমরা প্রথমে যক্ষ্মার চিকিৎসা করি। তারপর রোগীকে আইবিডির চিকিৎসা দিই। আজ যখন আমি এই সেমিনারে অংশ নিই, তখন দেখেছি যে জাপানিরা এই বিষয়ে অনেক এগিয়ে।তাই আমি অনুরোধ করব যে তারা এই বিষয়ে (বাংলাদেশকে) সাহায্য করতে পারে।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এএসএম বজলুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপচায (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। স্বাগত বক্তব্য দেন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. রোকনুজ্জামান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আতিয়ার রহমান।
বক্তারা জানান, সম্মেলনটি শিশুদের হেপাটাইটিস, ডায়রিয়া, ক্রনিক লিভার ডিজিজসহ নানা জটিল রোগ প্রতিরোধে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে। চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, সর্বশেষ চিকিৎসা উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশুস্বাস্থ্য গবেষণার পরিসর বাড়ানো—সব দিক থেকেই এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিনারে বলা হয়, বিএমইউর শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে এরইমধ্যে উন্নত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় এবং পুষ্টিসেবা চালু রয়েছে। উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমও নিয়মিত চলছে, যা ভবিষ্যতে শিশুস্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

You may also like

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স ৪৪/১, রহিম স্কয়ার

নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@pran24.com