প্রাণ ডেস্ক ।।
করোনা ভাইরাস গত কয়েক বছর ধরে সারা বিশ্বে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কোভিড-১৯ লাখ লাখ মানুষের প্রাণ নিয়েছে। ২০১৯-২০ সালে চীন থেকে ছড়িয়েছিল এই ভাইরাস। যার রাজত্ব এখনো চলছে বিভিন্ন দেশে। তারই মধ্যে নতুন আতঙ্ক ‘রহস্যজনক নিউমোনিয়া’। এরও উৎপত্তি সেই চীনেই।
বিশ্বের জনবহুল এই দেশটির রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘রহস্যজনক নিউমোনিয়া’। যার শিকার হচ্ছে হাজারে হাজারে শিশু। আক্রান্ত শিশুদের প্রথমে ইনফ্লুয়েঞ্জার বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, এরপর শুরু হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, যা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ।
রহস্যময় এই নিউমোনিয়ার ফলে আতঙ্কে রয়েছেন চীনের আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা। শুধু তাই নয়, যারা এখনো আক্রান্ত হয়নি, আতঙ্কে রয়েছেন তাদের মা-বাবারাও।
আল জাজিরা জানাচ্ছে, এই ‘রহস্যময় নিউমোনিয়া’ নিয়ে চীন সরকারের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার ক্লাস্টার পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য চীনের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে’।
কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই অনুরোধের বিপরীতে চীন সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এখনো। বিষয়টি নিয়ে জানতে আজ বৃহস্পতিবার ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত ১২ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশজুড়ে এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এ সময় করোনাকালে জনগণ যেসব বিধিনিষেধ মেনে চলতেন, অজানা এই নিউমোনিয়া ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীনাদের সেসব বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানান তারা।
জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা প্রোমেড ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। বলা হয়েছে, চীনের শিশুদের মধ্যে বর্তমানে যে নিউমোনিয়া শুরু হয়েছে, সেটি কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে তা এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গত তিন বছরের এই সময়ের তুলনায় অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে উত্তর চীনে ‘ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতা’ বেড়েছে।
বেইজিং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ডেপুটি ডিরেক্টর ও প্রধান মহামারি বিশেষজ্ঞ ওয়াং কোয়ানি বুধবার রাষ্ট্রচালিত গণমাধ্যম বেইজিং নিউজকে বলেন, চীনের রাজধানীতে ‘শ্বাসযন্ত্রের সংক্রামক রোগের প্রকোপ’ বেড়েছে। আক্রান্তদের টিকা নেওয়া এবং সুস্থদের থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।