‘দেশে  মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর অন্যতম একটি বড় কারণ বাল্যবিবাহ’

by glmmostofa@gmail.com

নিজস্ব প্রতিবেদক।। 

শিশুদের ভালো রাখতে হলে বাল্যবিবাহ কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, দেশে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর অন্যতম একটি বড় কারণ বাল্যবিবাহ।  আমরা স্বাস্থ্যসেবায় আমরা যথেষ্ট উন্নতি করেছি। শিশুদের ভালো রাখতে হলে বাল্যবিবাহ কমাতে হবে। এটি এখনো ৫০ শতাংশের ঘরে আছে। সেটাকে আমরা কমিয়ে আনতে পারলে শিশু ও মায়ের মৃত্যুহার কমবে।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর)  দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারাদেশে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী দুই কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশুকে আজ ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ক্যাপুসল খাওয়ানো হবে।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী  বলেন, ভিটামিন ‘এ’ এর পর্যাপ্ততা পেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শারীরিক নানা জটিলতা দূর হয়।বঙ্গবন্ধু যখন এই কর্মসূচি হাতে নেন তখন চার শতাংশের বেশি শিশু ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে অন্ধুত্বসহ নানা রোগে ভুগতো। এছাড়াও একসময়ে স্টান্টিং অনেক ছিল। পুষ্টির মান বাড়ায় এখন সেটি ২০ শতাংশের নিচে চলে এসেছে।

তিনি বলেন, ভিটামিনের অভাবে একসময়ে শিশুদের রাতকানা (অন্ধত্ব) রোগের প্রকোপ থাকলেও এখন তা শূন্যের কোটায় নেমেছে  । আমাদের মা ও শিশুমৃত্যু কমেছে। যার ফলে আমরা এমডিজি অর্জন করেছি। এবার আমাদের লক্ষ্য এসডিজি অর্জন।

জাহিদ মালেক বলেন, পৃথিবীর একমাত্র বাংলাদেশই কালাজ্বর থেকে মুক্ত হয়েছে। একইভাবে ফাইলেরিয়াও। আমরা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে অনেক এগিয়েছি। আগের তুলনায় মাতৃমৃত্যু কমেছে। এটি আরও কমাতে হলে বাল্যবিয়ে রোধ করতে হবে। একজন অসুস্থ মা সন্তান জন্ম দিলে অপরিণত ও কম ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারিতে অনেক পিছিয়ে আছি। ক্লিনিক ও হাসপাতালে যাতে নেয় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আট ঘণ্টা সার্ভিসে হাসপাতালগুলো চলতে পারে না। এগুলো ২৪ ঘণ্টা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বাড়বে, কমবে শিশু ও মাতৃমৃত্যু। একই সঙ্গে অহেতুক কেউ যাতে সি-সেকশন না করায় সেদিকে নজর দিতে হবে। হাসপাতালে বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসার মান বাড়াতে হবে। নার্সের ঘাটতি আগের মতো না হলেও চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এজন্য নতুন করে ছয় হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আজিজুর রহমানসহ আরও অনেকে

You may also like

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স ৪৪/১, রহিম স্কয়ার

নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@pran24.com